Posts

Showing posts from April, 2023
  জয়দেব আর কুমুদকিঙ্করে মজেছিল ফিলাডেলফিয়া্র যুগলও                                      -তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়   বাউলের আসর আর তাতে মানুষের মজে থাকা দেখতে হলে পৌষ সংক্রান্তির সময় জয়দেব কেন্দুলির মেলায় একবার যেতেই হবে। বাউল শব্দটা শুনলেই তো মনটা কেমন করে ওঠে। বাউল মানেই বাধা-বন্ধনহীন বিশ্বপ্রেমিক। গানের মধ্যেই তাদের নিজস্ব মরমি জগত। বাউল গান তো তাদের কাছে সাধনসঙ্গীত। এমন সহজিয়া সুরে মানুষ মজবেনা তো মজবে কিসে? জয়দেবের মেলা বা কেন্দুলির মেলা মানেই সেই বাউলদের আখড়া, সঙ্গে যদিও থাকে কীর্তনও। রাতভর সেইসব আখড়ায় ঘুরে ঘুরে বাউলগান শোনা আর ইচ্ছে হলেই যেখানে সেখানে বসে পড়ে পাত পেড়ে গরম গরম খিচুড়ি খেয়ে নেওয়া, বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী মানুষের স্রোতে ভাসতে ভাসতে সারা রাত মেলায় ঘোরা, এই টানেই হয়তো অনেকেই যান সেখানে। আমি সেই মেলায় প্রথম গেছিলাম তরুণ বয়সে।   তবে সে আজকের কেন্দুলি নয়। সেই সত্তরের দশকের মাঝামাঝি। ...
  এখন আর কেউ বলেনা চিঠি দিও -     তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি মানে খাম পোস্টকার্ড পোস্ট অফিস লেটার বক্স , চিঠি মানে হাতে বল্লম আর পিঠে চিঠির ব্যাগ নিয়ে ঝম ঝম ঘণ্টা বাজিয়ে রাতভর রানারের ছুটে চলা । চিঠির সঙ্গে এই অনুষঙ্গ গুলো অনিবার্য ভাবে চলে আসে । চিঠি মানে অপেক্ষাতেও থাকা । আগে হয়তো অনেকেই অপেক্ষায় থাকতেন , সেই অপেক্ষার মধুর সমাপনও হত অনেক ক্ষেত্রে , কিন্তু আজ বিকেলের ডাকে কারও চিঠি আসবে সেই আশায় এখন কতজন থাকেন বলা মুশকিল । চিঠিপত্র লেখা এবং চিঠি পাওয়া আজকের ফোর জি মোবাইল বা হাই স্পীড ইন্টারনেটের যুগে আর মানুষের জীবনে সেভাবে নেই , অন্তত ব্যক্তিগত স্তরে । ডাক , ডাকঘর , ডাকবাক্স , ডাকপিয়ন প্রভৃতি শব্দগুলো আস্তে আস্তে যেন অনেক আড়ালে চলে গেছে দৈনন্দিন জীবন থেকে । দুপুর বা বিকেলের ডাকের অপেক্ষায় থাকা যুবক যুবতীরা সাইকেলের ঘণ্টি শুনেই বুঝে যাবে যে পিওন কাকু এসে গেছে , হাতে এখনই ধরিয়ে দিয়ে যাবে প্রতীক্ষার নীল খাম , সে দিন এখন আর নেই। কলকাতা তার আয়তন বাড়াতে বাড়াতে পিন কোড ৭০০১৫৬ পর্যন্ত চলে গেলেও হাতে লেখা ব্যক্তিগত চিঠি কোন পোষ্ট অফিসেই উপচে পড়েনা । অবশ্য শুধু...
  কীসে তৃপ্তি? কীসে আনন্দ? -তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় কীসে তৃপ্তি? কীসে আনন্দ? মানুষের জীবনের গল্প অনেক । তাই বলে সবার গল্প একরকম নয় । এক একজন সুখী মানুষের গল্প এক একরকম । আবার যারা সেই অর্থে ঠিক সুখী নয় , তাদের গল্পও আলাদা । সুখ দুঃখের ভাবনাটাও এক একজনের কাছে এক এক রকম । অনেকের কাছে এ এক বিলাসিতা । অল্প কিছু নির্দিষ্ট রোজগার কিম্বা দিন আনা দিন খাওয়ার বাঁধা রুটিনে অভ্যস্ত জীবন যাদের , তারা সমস্ত চ্যালেঞ্জ সামলে আর সুখ দুঃখের দার্শনিক ভাবনা নিয়ে ভাবতে বসেনা । বসলে চলেনা যে । পালটে যাওয়া গল্পের মতো তাদের জীবনেও সুখের সজ্ঞা পালটে পালটে যায় ।   কথাগুলো মাথায় আসে চারপাশে ঘটতে থাকা কিছু ঘটনা আর চলতে ফিরতে থাকা কিছু মানুষজনকে দেখতে দেখতে । না , বিশাল কিছু দার্শনিক বা সমাজতাত্ত্বিক ভাবনা থেকে নয়। সেসব নিয়ে তো অনেকেই অনেক কথা লিখেছেন , বলেছেন । সমাজের ভিন্ন মেরুর জীবনযাত্রা নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা হয়েছে অনেক । আমরা যারা ভদ্র - সভ্য একটা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকি তারা...