একান্নবর্তী পরিবার থেকে আজকের নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি

 

একান্নবর্তী পরিবার থেকে আজকের নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি

 

                                          -তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়

 

এগিয়ে যাওয়া সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এগোচ্ছে কলকাতাও। এ এক অমোঘ ডিজিটাল সময়। যৌথ পরিবার, সম্পর্ক, বন্ধন, আবেগ আর আগেকার ফর্মে নেই, সবকিছুই নতুন হয়ে এক অন্য আদলে এসে গেছে। বিশাল ভূখণ্ড যেন ভাগ হয়ে গেছে ছোট ছোট দ্বীপে। খুব দ্রুত মানিয়েও নিতে হচ্ছে তাকে। কবেই বাতিল হয়ে গেছে সেই পুরনো কনসেপ্ট।

অথচ একসময় যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারই ছিল সমাজের ভিত্তি। কলকাতা তথা সারা বাংলায় সেই আবহের মধ্যেই চলত প্রত্যেকের বেড়ে ওঠা, সংসার জীবন যাপন, ধর্ম কর্ম সুখ দুঃখ আনন্দ সব। আর এই প্রথার শুরু সেই ঋগ্বেদের যুগ থেকেই এবং বাঙালি জীবনে চল্লিশ পঞ্চাশ বছর আগের সময় পর্যন্ত তা চালু ছিল। পরিবার মানে তখন এক বাড়িতে অনেকে মিলে একসঙ্গে বসবাস। সুখ দুঃখ আনন্দ শোক ভালো মন্দ সব একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিটি থাকতেন পরিবারের কর্তার আসনে। তিনি সকলের অভিভাবক, তাঁর কথা মেনে চলতো সবাই। আসলে সেটাই ছিল প্রচলিত পারিবারিক সিস্টেম। এক হাঁড়িতে রান্না, একসঙ্গে ভাগ করে খাওয়া সেই সব পরিবার মানেই ভালবাসা ও মিলমিশের  এক দৃঢ়বন্ধন, যা যুগের পর যুগ মানুষকে দায়িত্ব পালন করতে, সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে উসাহিত করেছে।

মা কাকিমা, জেঠিমাদের সারাদিন কেটে যেত রান্নাঘর আর ঘরকন্নার নানান কাজে। বাইরের জগত সম্মন্ধে তাঁদের তেমন উসাহ বা সময় কোনটাই ছিলনা। তাঁদের স্নেহ যত্ন ও ভালবাসার ছোঁয়ায় পরিবারের অন্য সদস্যদের মনে বিরাজ করত একটা প্রশান্তি, তেমন কোন অভিযোগেরই প্রায় আর সুযোগ থাকতনা। একটা অনুশাসন মেনে চলতে হত সবাইকে। ফলে ভালবাসা ও কিছুটা প্রশ্রয়ের সঙ্গে সেই পারিবারিক অনুশাসন ও শৃঙ্খলার সুফল ভোগ করত সকলেই। বিষাদগ্রস্ত হওয়া বা একাকীত্ব অনুভব করার আশঙ্কা থাকতনা কোন সদস্যের মধ্যে। একটা একতাবোধ, সমষ্টিগতভাবে চলার মানসিকতা তৈরি হয়ে যেত সবার মধ্যে। একজনের বিপদ বা অসুস্থতা বা বিপন্নতা তার একার নয়, গোটা পরিবারের মাথাব্যাথার কারণ। এক ধরনের সম্মিলিত ভরসা আর বিশ্বাসের জায়গা ছিল পরিবারের ভরকেন্দ্রে। বাংলা সাহিত্যেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। শর চন্দ্রের বৈকুণ্ঠের উইল গল্পে মৃত্যুপথযাত্রী বৈকুণ্ঠের চিন্তা ছিল প্রথম পুত্র গোকুলের নামে সব উইল করে দিলে কনিষ্ঠ পুত্র বিনোদের কি হবে। উত্তরে তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের পত্নী, বিনোদের মা তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, “তার কথা তুমি ভেবো না। সে লেখাপড়া শিখচে - নিজের পথ সে নিজে করে নেবে। আর যত মন্দই হোক - গোকুল তাকে ফেলতে পারবেনা - ছোটভাইকে সে দেখবেই”। বিমাতা হয়েও গোকুলের উপর যে ভরসা আর বিশ্বাস, সেটাই সেই সময়ের পরিবার তথা সমাজের মেরুদণ্ডটাকে চিনিয়ে দেয়।

দাদু ঠাকুমা মা বাবা, এক বা একাধিক কাকা কাকিমা জেঠা জেঠিমা পিসি দাদা দিদি ভাই বোন সবাই মিলে একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা হত অনেক। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধের যে পরিবারকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য, বাঙালি তাকে লালন করেছিল দীর্ঘদিন। তাতে কোন কলুষ ছিলনা, দ্বন্দ্ব ছিলনা, বরং সন্তুষ্টি ছিল, পূর্ণতার অনুভূতি ছিল। আসলে সম্পর্ক আর উদারতার মেলবন্ধনে সে ছিল এক অদ্ভুত কার্নিভাল।

পরিবারের সব পুরুষ সদস্যই যে সমান উপার্জনশীল ছিল তা নয়, কিন্তু সেটা কোন অন্তরায় হয়ে উঠতোনা কারণ পারস্পরিক নির্ভরতাই ছিল পরিবারের এক মজবুত বন্ধনের উপকরণ। তাই কেউ সামান্য উপার্জন করলেও বা একেবারে না করলেও তার এবং তার স্ত্রী সন্তানের জীবন যাপনে কোন প্রভাব পড়তনা। সমস্ত দায় এবং দায়িত্ব স্বাভাবিক নিয়মেই বর্তাত সামগ্রিক ভাবে গোটা পরিবারের উপর। কোন একজন সদস্যের ব্যক্তিগত কষ্ট বা অপূর্ণতা যেমন ভাগ করে নিত সকলেই তেমনি তার কৃতিত্ব বা গৌরবে গৌরবান্বিতও হত সকলেই। বিশেষত যিনি সবচেয়ে বড় বা অভিভাবক, তাঁর দাবি সবচেয়ে উপরে, সম্মান বেড়ে যেত তাঁরই।

এই পারিবারিক বন্ধন এবং অনুশাসনের যে প্রভাব পড়ত শিশুদের উপর, তার ফল ছিল সুদূরপ্রসারী। যৌথ পরিবারের কোন শিশুকে কখনও একাকীত্বে বা অনাদরে ভুগতে হয়নি। অন্য আরও অনেকের সঙ্গে একসাথে পারিবারিক শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হওয়া, সম্পর্কের সূত্রগুলো চিনতে শেখা, অনেক কিছু অনেকের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া শিশুদের যে মূল্যবোধ তৈরি করে দিত তা পরবর্তী জীবনে তার সহায় তো হয়ে উঠতই, তাকে করে তুলত অনেক বেশি উপযুক্ত। নিয়মানুবর্তিতা, সামাজিকতা ও সহনশীলতার চর্চা আর স্কুলের পাঠক্রমের পাশাপাশি পরিবার থেকে যে শিক্ষা তারা পেত তা পরবর্তীকালে তাকে জীবনের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে সাহায্য করত অনেকখানি। 

ধাক্কাটা লেগেছে অনেক আগেই, মূলত পাশ্চাত্ত্য সভ্যতার প্রভাবে। বিশেষত মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজ তা পর্যবেক্ষণ করতে করতে ক্রমশ আত্মস্থ করেছে, প্রয়োগ করেছে নিজের পরিবারে। তাই ভাঙতে ভাঙতে এখন বিলুপ্তপ্রায় কলকাতা সহ বাঙ্গালির একান্নবর্তী পরিবার। এর কারণগুলিও আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে জোরালো হয়েছে। যেমন শিল্পায়ন আর উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কল্যাণে মানুষ ছুটেছে, নগরায়ন হয়েছে।

নারী স্বাধীনতার প্রসার আর এক বলিষ্ঠ কারণ। প্রাচীন কালের মা কাকিমা জেঠিমাদের মত আধুনিক যুগের নারী খুব সঙ্গত কারণেই শুধু মাত্র ঘরের কাজ আর রান্নাঘরের চক্রব্যূহে জীবন কাটিয়ে দিতে রাজি নয়। সংসারের প্রয়োজনেই সেও চায় বাইরে গিয়ে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে। ক্রমশ জনসংখ্যা বেড়েছে, সম্পত্তি নিয়ে কর্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে স্বার্থের সংঘাত। Special Marriage Act, 1954 চালু হওয়ার ফলে যে কোন জাতি ও ধর্মের যে কোন পছন্দের পাত্র বা পাত্রীকে মা বাবার অমতেই বিয়ে করার স্বাধীনতা এক চরম পরিবর্তন আনল সম্পর্কের ক্ষেত্রে। তাছাড়া The Hindu succession Act, 1956 অনুসারে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির উপর মেয়েদের অধিকারের দাবি প্রতিষ্ঠিত হল। আর তার ফলে এক মৌলিক পরিবর্তন ঘটে গেল যৌথ পরিবারের কাঠামোর মধ্যে। আর একটি উল্লেখ করার মত অপূর্ণতা ছিল যৌথ পরিবারে – স্বাধীনতার অভাব। সমষ্টিগত দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে থেকে হারিয়ে যেত মানুষগুলির ব্যক্তিস্বাধীনতা। নিজের ইচ্ছেমত কিছু করার বা আর একটু ভালো থাকার ইচ্ছে থাকলেও কোন উপায় ছিলনা কারও। কোন স্পেস ছিলনা সেই অর্থে, আর সেটাই মনের মধ্যে জন্ম দিত একটা চাপা ক্ষোভ, অনেক সময় হীনমন্যতা। তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে এক ছাদের তলায় থাকা একান্নবর্তী পরিবারের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলনা।

তাই আস্তে আস্তে জীবনেরই প্রয়োজনে জীবনেরই দাবিতে একে একে ছিটকে গেছে সকলেই। ছিন্ন হয়ে গেছে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা সম্পর্কের বন্ধনগুলো। সঙ্কুচিত হয়ে গেছে পরিবারকেন্দ্রিক জীবনের স্পন্দন। সবচেয়ে বিশ্বাসের, সবচেয়ে নির্ভরতার সম্পর্কগুলো যেন অপরিচিত আদল নিয়ে সামনে দাঁড়িয়েছে এসে। সম্পর্কের নানা সুতোয় বাঁধা মানুষগুলোর উষ্ণ সান্নিধ্য ছেড়ে বেরিয়ে এসে ছোট্ট পরিবার বাসা বেঁধেছে এক চিলতে ঘরে কিম্বা একফালি ব্যালকনি সুদ্ধ কোন ফ্ল্যাটে। সারা কলকাতা শহর শুধু নয়, শহরতলিতেও এখন একই অবস্থা, সেখানে বৃদ্ধ দাদু ঠাকুমা, বয়স্ক মা বাবা কাকু কাকিমা দাদা বৌদি ছোটপিসি বড় জ্যেঠু কেউ নেই। শুধু স্বামী স্ত্রী আর একটি বা দুটি সন্তান। একেবারে নিজের মত করে নিজের পছন্দে বাঁচার স্বপ্ন আর অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছে মানুষ।

পিছনে পড়ে থেকেছে ছত্রখান হয়ে যাওয়া এতদিন ধরে রাখা যৌথ পরিবারের কাঠামোটা আর নিঃসঙ্গ হয়ে যাওয়া পরিবারের প্রবীণ মানুষগুলি। আরও ভালো থাকা, স্বাধীনভাবে স্ত্রী সন্তান নিয়ে নিজের ইচ্ছেমত বাঁচা, এই ইচ্ছেকে রাস্তা ছেড়ে দিতে বাধ্য করেছে সময়। সমকালীন সাহিত্যে চলচ্চিত্রেও তার প্রভাব কিছু কম দেখা যায়নি। বিতর্ক হয়েছে, বিশ্লেষণ হয়েছে, পক্ষে বিপক্ষে মতামত ব্যক্ত হয়েছে, কিন্তু গতিকে আটকানো যায়নি। তাকে আরও ইন্ধন যুগিয়েছে গ্লোবালাইজেশন। ‘পৃথিবীটা ক্রমে ছোট হতে হতে বোকা বাক্সতে বন্দী’ হওয়াটাই শেষ পেরেক। কোথায় পড়ে থাকল এক হাঁড়ির খাবার খাওয়া, তুচ্ছ জিনিষও সবার সঙ্গে ভাগ করে খাওয়া, একসাথে বেড়ে ওঠা, শাসন আর ভালবাসার বন্ধন। ধূলো পড়া পুরনো আসবাবের মত মলিন সম্পর্কগুলি একসময় বাতিল হয়ে গেছে।

এখনকার কনসেপ্টে পরিবার মানে আর সেই সব জড়িয়ে থাকা মানুষগুলি নেই। পরিবার পরিকল্পনার পরামর্শ, ‘হম দো, হমারা দো’ নীতির বাস্তবায়ন মেনে নিয়েছে মানুষ। ‘ছোট পরিবার সুখী পরিবার’, সত্তরের দশকের সেই অতি পরিচিত বিজ্ঞাপনের আবেদন বিফলে যায়নি। তাই এক বা দুটি সন্তানকে ঘিরে বাবা মা’র যে বৃত্ত সেখানে আর কারও উপস্থিতি নেই। সেটিই নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি। আরও বয়স্ক বা বৃদ্ধ কোন সদস্য যদি কেউ থাকেন সংসারে, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রমে। এই সুবিধাটাও মানুষেরই প্রয়োজনে তৈরি করেছে মানুষ। প্র্যাক্টিক্যাল হতে গিয়ে, সুখী হতে গিয়ে, সর্বোপরি জীবনে এস্টাব্লিস্‌ড হতে গিয়ে এটা করতে হয়েছে। জীবনযাত্রার মান যত উন্নত হয়েছে, একসঙ্গে অনেকের সঙ্গে থাকার বদলে যত ঘরের আর নিজের স্পেস বেড়েছে, তত দূরে সরে গেছে একসময়ের কাছের মানুষগুলি ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনেরা। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিকে এখন আর গাদাগাদি করে একসঙ্গে থাকতে হয়না। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি সুদ্ধ পুরনো বাড়ি মেইনটেন করা অনেক অসুবিধার, তাই তা তুলে দেয় প্রমোটারের হাতে। বিনিময়ে টাকা, ফ্ল্যাট, সুবিধা। তার ফ্ল্যাটের সাইজ যা তাতে সে এখন মোটামুটি স্বচ্ছন্দে থাকতে পারে। কিন্তু সেখানে অন্য এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলির কারও জায়গা নেই।

ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে লাইফ-স্টাইলে। ছিমছাম সাজানো পরিপাটি সংসারের সঙ্গে মানানসই এমন জিনিষই তার পছন্দের। যা একান্নবর্তী পরিবারে কখনো সম্ভব হতনা। মা কাকিমা জেঠিমার যত্নের ছোঁয়ার বদলে তার সংসার গোছায় ডোমেস্টিক হেল্প। পুকুর বা কুয়ো-তলার বদলে কাচাকাচি করে ওয়াশিং মেশিনে। এ সি ছাড়া ঘুম আসেনা। বাঙালি এখন জিমে যায়, শরীর চর্চা করে, যোগাসন করে। নিঃশব্দে পরিবর্তন এসে গেছে রান্নাঘরেও। পুরনো দিনের অভ্যাস বদলে গেছে ধীরে ধীরে। যৌথ পরিবারের মুড়ি চিঁড়ের পরিবর্তে স্বাতন্ত্রপ্রিয় মধ্যবিত্ত বাঙ্গালি এখন টিফিনে খায় চাউমিন, মোমো, নুড্‌ল্‌স। মুরগীর মাংস বা ডিম খাওয়ার জন্য আর বাড়ির বাইরে যেতে হয়না ।সে এখন ক্যালরি কনশাস, ডায়েটও করে।  তবু মাঝে মাঝেই বাইরে খায়, রান্না করতে ইচ্ছে না হলে হোম ডেলিভারির অর্ডার দেয়। এগুলো সে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি তে অর্জন করেছে।

কিছুটা বিপন্ন হয়েছে শৈশব। ঠাকুমা দাদু কাকু পিসির আদর বা সান্নিধ্য আর পায়না অধিকাংশ শিশুরা। সবাই এখন আত্মীয়, দূরে থাকে, কিম্বা নেইই কেউ সেরকম। রূপকথার গল্প শোনা, শাসনে আড়াল খোঁজা, কল্পনার পক্ষীরাজ ঘোড়ার দৌড়ে নিজেকে সামিল করা, সব হারিয়ে গেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। ফলে মানসিক বিকাশ কিছুটা তো ব্যাহত হচ্ছেই। সমস্ত মা বাবা-ই চান সন্তানকে মনের মত করে মানুষ করতে, করছেনও, কিন্তু কোথাও একটা একাকীত্ব, মা বাবা ছাড়াও অন্য কারও একটু স্নেহশীল প্রশ্রয়ের অভাব, এই অপূর্ণতা গুলো কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। পারিবারিক বন্ধনের মজাটা তারা মিস করছে। সম্পর্ক, সময়, আত্মীয়তা সব এখন বোকা বাক্সকেও ইগনোর করে হাতের মুঠোয় বন্দী। মোবাইলই এখন সবচেয়ে প্রিয়জন, সারা পৃথিবীর সঙ্গে যোগসূত্রের সেতু। আর সেই সম্পর্ক, বন্ধন আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ফাঁকফোকর দিয়ে ঢুকে পড়ছে ব্লু হোয়েলের তীব্র আগ্রাসন।

 কেউ কেউ এই মিস করাটা অনুভব করেন। মিসিং লিঙ্কটা খুঁজে বেড়ান। সেই ছন্দটা ফিরে পেতে চান। সমকালীন সাহিত্যে তার খুব একটা ছায়া না থাকলেও টেলিফিল্ম, সিরিয়ালে একান্নবর্তী পরিবারের কিছু মাহাত্ম দেখান হয়। নতুন দম্পতিরাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিশেষ করে মা বাবার সঙ্গে এক ছাদের তলায় থাকতে চান। সেটা কতটা আন্তরিক বা কতটা সাময়িক আবেগ তা সময়ই বলবে।

                                                              ----------

 

 

 

 

Comments

Popular posts from this blog